মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

 

উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ফোন-০৮৫১-৬১৫৩৪, ফ্যাক্স নম্বর-০৮৫১-৬১৫৩৪, ই-মেইল- ddaebbaria@yahoo.com. এ অফিস হতে কৃষকদেরকে কৃষি উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান করা হয়।

 

’’কৃষিই সমৃদ্ধি’’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তরাংশে অবস্থিত। এ জেলার উত্তরে কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, পূর্বে হবিগঞ্জ জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণেকুমিল্লাএবং পশ্চিমে নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলা দ্বারা বেষ্টিত। জেলাটি প্রায় ২০°৩৯"হতে ২৪°১৬"  উত্তর অক্ষাংশেএবং ৯০°৪৪"  হতে ৯১°৫১"  পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। জেলার মোট আয়তন ১৯২৭ বর্গ কিলোমিটার।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। কৃষি, শিক্ষা-সাহিত্য, সাংস্কৃতিক তীর্থক্ষেত্র রূপে ভারত উপমহাদেশ ব্যাপী এ জেলা সুপরিচিত। দিন বদলের পালায় কৃষি প্রযুক্তি হসত্মামত্মরে ও আধুনিক কৃষি কলা-কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ জেলার অবস্থান প্রথম সারিতে।

 

তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ফুল, ফল আর ফসল উৎপাদনে সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। রবি মৌসুমে যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই সরিষা আর সোনালী ফসল বোরো ধান। সরিষা ফুলের হলুদ রং এ হলদে হয়ে যায় সমস্ত মাঠ, সরিষা ফুলের হালকা সুবাস এবং মৌমাছির গুঞ্জনে মনটাকে ক্ষনিকের জন্য হলেও উতলা করে তুলে। এই জেলার নাছিরনগর, নবীনগর, আশুগঞ্জ এবং বাঞ্ছরামপুর উপজেলায় ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ হয়ে থাকে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোট আবাদী জমির পরিমান ১৪৫১৫০ হেঃ। এখানে এক ফসলী জমি- ৪১,৮৫০ হেঃ, দুই ফসলী জমি- ৮৪,০০০ হেঃ এবং তিন ফসলী জমি-১৭,৮৫০ হেঃ, চার ফসলী-৬৫০ হেঃ, নীট ফসলী জমি-১৪৫১৫০ হেঃ। মোট ফসলী জমি-২,৬৭,০৭৬ হেঃ। ফসলের নিবিড়তা ১৮৪%। জেলার মোট জনসংখ্যা-৩০,৮৯,৬২০ জন । ২০১৪-১৫ সনে এ জেলায় খাদ্য উৎপাদন-৬,১৬,৮২২ মেঃ টন এবং মোট খাদ্য চাহিদা-৫,৮৪,২৫৯ মেঃ টন । বার্ষিক খাদ্য উদ্বৃত্ত ৩২,৫৬৩ মেঃ টন। ক্রমর্বধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য আরো অধিক উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভূ-প্রকৃতি হলো উচু, মাঝারী উচ,ু মাঝারী, মাঝারী নীচু, নীচু ও অতি নীচু জমি এবং মাটির প্রকার এটেল, এটেল দোঁয়াশ, দোঁয়াশ, বেলে দোঁয়াশ ও বেলে মাটি। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটের মতে ১৬,১৯,২১,২২,২৯,৩০ এ ই জেড রয়েছে। এ মাটিতে ধান, পাট, গম, সরিষা, আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, মরিচ ও শাক সব্জিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। এ জেলায় সেচের অধীন-১,২০,০০০ হেক্টর জমি রয়েছে। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সেচের জমির পরিমান আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। সেচ এলাকা বৃদ্ধি হলে উৎপাদন আরো বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং এ ভাবে শস্যের নিবিড়তা আরো বাড়ানো যেতে পারে।

 

এ জেলায় পাহাড়ী এলাকা আছে। সে সব এলাকায় লিচু, আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জলপাই, সজিনা, জাম ও অন্যান্য হরেক রকমের ফলের চাষ হয়। এরই ফাঁকে আমত্মঃফসল হিসেবে আদা, হলুদ ও শাক সব্জীর আবাদ যথেষ্ট পরিমান হয়। পাহাড়ী এলাকায় ফলজ ও বনজ বৃক্ষ প্রকৃতিতে এনেছে বৈচিত্রময় ভারসাম্য।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর, কসবা, বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার উঁচু জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফলজ, বনজ ও শাক-সব্জী উৎপাদন হয়ে থাকে।

 

তথ্য প্রযুক্তির যুগে আধুনিক বাংলাদেশ গড়া, কৃষি ও কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মূল লক্ষ্য। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও কলা কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে কাংখিত উৎপাদন অর্জনের মাধ্যমে এ দেশের আপামর জনসাধারনের বিশেষ করে কৃষক কুলের দারিদ্র বিমোচন করে ভাগ্যোন্নয়ন হোক এটাই আমাদের ঐকান্তিক কামনা।

 

 

 

      

ছবি